স্বপ্ন পূরণ পর্ব ১

স্বপ্ন পূরণ পর্ব ১

সানাইয়ের সুরে গোলাপের মালায় মালা বদল, পান পাতা সরিয়ে শুভদৃষ্টি ও হচ্ছে, এরপর চোখ বন্ধ করে পরম আনন্দে সিঁদুরদান হচ্ছে .... এসব উপভোগ করতে করতেই কলিংবেলের শব্দে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল সায়ক এর। ইস বউটা যে কে সেটা আর স্পষ্ট করে দেখা হলো না সায়ক এর। ধুর শালা কে যে এল এই সময় ... বউয়ের মুখটা দেখা খুব ইম্পরট্যান্ট ছিল ওর।

ইয়ং বয়স তো এটা নিয়েই অন্তত মাসখানেক স্বপ্নের জগতে ডুবে থাকতে পারবে সায়ক। দরজাটা খুলতে গিয়ে দেওয়ালের ঘড়িটায় দেখল পৌনে নটা বাজে, বেশ বেলা হয়ে গেছে.... তাহলে আর কেই বা আসবে, রান্নার মাসি এসেছে.... কিন্তু মনের মধ্যে খচখচ করছে স্বপ্ন টা পুরো দেখলে ভালোই হতো, তাতে আজ না হয় রান্নার মাসি আসতো না, না হয় হোটেলেই খেয়ে নিত ও। উফ ভগবান ও যে কি কে জানে.... এত ভালো স্বপ্ন দেখাল অথচ কমপ্লিট করল না।

এবার আসি সায়কের কথায়-19 বছরের সায়ক বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে, উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে কলকাতায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে এসেছে। কোন মেস বা হোস্টেলে থাকে না,বাবার অঘাত পয়সা তাই বাবা একা থাকার জন্যই ছেলেকে তিনশো কুড়ি স্কয়ার ফিটের ছোট্ট একটা ফ্ল্যাট কিনে সাজিয়ে দিয়েছে, বাবা-মা হুগলির পুরনো বাড়িতেই থাকে। প্রথম প্রথম সায়ক কলেজ ছুটি পেলেই হুগলিতে ছুটে যেত, কিন্তু বছর কাটতে না কাটতেই আজকাল সায়কের বাড়ি যাওয়া হয়ে ওঠে না, আর গেলেও দু চার দিন থেকেই পাগল হয়ে যায় কলকাতায় ফেরার জন্য, বোধহয় সবার মত সায়কও  কলকাতা শহরটাকে ভালোবেসে ফেলেছে, তাই মিস করা শুরু করে দিয়েছে।

যাইহোক সায়ক মাসিকে চিকেন ফ্রিজ থেকে বের করে দিয়ে ব্রাশ নিয়ে বাথরুমে চলে এল, বাবা মায়ের আদরের সন্তান হলেও সায়ক নিজের কাজকর্ম ছোট থেকে নিজে করতেই ভালোবাসে। রান্নাটা এখনো সেভাবে শেখা হয়ে ওঠেনি তাই অগত্যা মাসির ওপর নির্ভরশীল হতে হয়।ব্রাশ করে স্নান সেরে কলেজের জন্যে রেডি হতে হতেই প্রতিদিন মাসীর রান্না শেষ হয়ে যায় কিন্তু আজ মনে হয় সায়কের দিনটাই খারাপ..... প্রথমত স্বপ্নভঙ্গ...দ্বিতীয় তো মাসির দেরী করে আসা ফলে দেরিতে রান্না আর তার ফলে সায়কের প্রথম ক্লাস মিস। মধ্যা কথা হল বৃষ্টিকে 40 মিনিট কম অবজার্ভ করতে পারবে আজ সায়ক.... এটা ভেবেই সারা শরীর জ্বালা দিচ্ছে তারপর আবার ওই স্বপ্নের খচখচানি। কিন্তু কাউকে কিছু বলার নেই... কি বা বলবে রান্নারমাসি কে... এতটা উদ্ধত্য সায়ক দেখাতে শেখেনি... 1  দিন তো মানুষের এরকম হতেই পারে তাই না..?

উফ এদিকে গরম খাবার তার উপর ঝাল তার ওপর কলেজে যাওয়ার তাড়া... রাগে, গরমে তেতে যাচ্ছে... কি যে ফিলিংস হচ্ছে সায়কের সেটা সায়কই জানে। যাইহোক প্রথম ক্লাসটা যখন মিস ই হয়ে গেল তাহলে তাড়াহুড়ো করে লাভ নেই এটা ভেবে নিজেকে শান্ত করে সে ওকে ধীরেসুস্থে খেয়ে কলেজ বেরোলো। ফ্লাট থেকে কলেজ অটোতে মিনিট 15 সময় লাগে।ভরা গরমকাল অটোতে বসে যেন সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে, মনে হচ্ছে মুখ থেকে তেল বেয়ে পড়ছে। রুমাল বের করে মুখ মুছতে মুছতে এসে কলেজ ঢুকলো, পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে টাইম দেখলো এখনো তিন মিনিট বাকি আছে প্রথম ক্লাস শেষ হওয়ার, রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে পুরো রুমটার আদি-অন্ত দেখে ফেলল... কিন্তু বৃষ্টি কোথায়? বৃষ্টি কি আজ আসেনি? উফ কপালটা আজ সত্যিই খারাপ। এত খারাপ কেন একদিনে হচ্ছে? স্বপ্ন দেখার বয়স তো তাই হঠাৎই আবেগী হয়ে যায় সায়ক যদিও এটা বয়সের দোষ, ক্লাস করার ইচ্ছাটাই নষ্ট হয়ে গেলো সায়কের। যাই হোক কলেজে যখন এসে গেছে ক্লাস না করে চলে যাওয়ার ছেলে সায়ক নয়... এতটাও আবেগি নয়। বয়স কম হলেও ফিউচার নিয়ে যথেষ্ট ভাবুক।আজকালকার দিনের ছেলে তো তাই খুব ভাল করেই বোঝে যে নিজেকে স্ট্যান্ড না করালে কোন বৃষ্টি ই কপালে জুটবে না...

প্রথম ক্লাস শেষ হতেই সায়ক রুমে গিয়ে ঢুকলো, মনটা বেশ খারাপ লাগছে, কোন কিছুতেই ঠিক মনটা লাগাতে পারছে না.. এমনকী স্যারের পড়ানোতে ও নয়... হঠাৎ ধূমকেতুর মতো উদয় হলো নীল সালোয়ার-কামিজে বৃষ্টি....

বৃষ্টি: স্যার আসবো?

                                                                     চলবে....