অসম্পূর্ণ

অসম্পূর্ণ

মোবাইলে নতুন ডেটিং অ্যাপ টা ইন্সটল করে নেয় কিছু না ভেবেই নিশা।প্রথম প্রথম অনেক ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসাতে বেশ মজাই লাগছিল নিশার।প্রায় প্রতি সেকেন্ডে মেসেজের ঝড় উঠতে লাগলো কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরেই খুব বোর লাগছিল নিশার-ভাবছিল যে একটা হয়তো ডিলিট করে দেবে কিন্তু হঠাৎ রোহন নামে একটা ছেলের সাথে মন্থরগতিতে মেসেজ শুরু হল।নিশা ঠিক যতটাই বকবক করে রোহান ঠিক ততটাই চুপচাপ।নিশার ইন্টারেস্ট একটু বাড়তে থাকে কিন্তু সেটা শুধু একটা কারণেইএইসব অ্যাপে সব ছেলেরাই অসভ্যতা ট্যাবলেট খেয়ে মেসেজ করতে বসে কিন্তু রোহান পুরো উল্টো মেয়েদের সাথে কথা বলতে গেলে তার যেন গ্লুকোন ডি খেয়ে বসতে হয়।দু তিন দিন কেটে গেল তাদের আলাপ-পর্ব সারতে,কথার ত্বরন কিন্তু ক্রমশ হচ্ছিল।এরপর এলো সেই রাত যে রাতে তারা বিছানায় শুয়ে অন্ধকার ঘরে সারারাত চ্যাটিং করে কাটিয়ে ভোরবেলায় পাখির কলতানে ফোন নাম্বার আদান প্রদান করলো।ভোর হতেই রোহান তো ঘুমিয়ে কাদা হয়ে গেল কিন্তু নিশার জবা ফুলের মতো লাল ঘুমন্ত চোখগুলো নিয়ে স্টুডেন্টদের পড়াতে হলো।কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হল যে পড়াতে পড়াতে নিশার মন তখন উতাল পাতাল ঢেউ কাটছে যে রোহান কখন ঘুম থেকে উঠে মেসেজ করবে, শেষমেষ প্রতীক্ষার অবসান হলো বেলা এগারোটার সময়।তারপর আবার শুরু হল কথার ঝড় কিন্তু নিশার মুখে কথার ফুলঝুরি ফুটিয়ে চলেছে রোহান শুধু হুঁ, হ্যা, আর না।এভাবেই বেশ কয়েক মাস কেটে গেল, নিশার মনে হতে থাকে যে নিশা এখন আর স্বাবলম্বী নয় যে কোনো ডিসিশন নিতে গেলে সে রোহান এর সাথে পরামর্শ করে নিতে হয়।তারপর হঠাৎ একদিন তাদের দুজনেরই মনে হয় তারা দুজনের প্রতি দুজনের নির্ভরশীলতা প্রায় 99% হয়ে গেছে।নিশা তো ভাবতেই পারে না যে কাউকে না জেনে না চিনে না দেখে কারোর ওপর নির্ভর করে ভরসা করে মনটা সমর্পণ করা যায় কিনা?এদিকে নিশা গ্রাম্য কিন্তু ডিজিটাল রোহানকে ধীরে ধীরে সমাজে মানিয়ে চলা শিখে ফেলেছে।এরপর দুজনের মন ভর্তি ভালোবাসার অনুভূতি চেপে রাখতে না পেরে বিস্ফোরণ ঘটলো নতুন এক ভালোবাসার সম্পর্কে।বেশ কয়েক মাস এভাবেই নতুন নতুন স্বপ্নের বীজ বুনে তারা কাটিয়ে দিল।এরপর নিশার বায়না শুরু হল তোমাকে ফটোতে দেখে আর কলিজা ঠান্ডা হচ্ছে না, তোমার হাতে হাত রেখে হাঁটতে চাই কিন্তু রোহান একের পর এক প্লান নষ্ট করতে থাকে এদিকে নিশার কষ্টটা  জেদে পরিণত হল -আসলে নিশার মনে হত এই অসম্পৃক্ত জীবনে অনেক কিছু সম্পৃক্ত করতে পারবে রোহন।তারপর হঠাৎ সেদিন এলো যেদিন তারা যে স্বপ্নের বীজ বুনি ছিল তাদের ছোট্ট গাছ তৈরি হলেও হঠাৎ বিষক্রিয়ার সব গাছ এক মুহূর্তে মরে যেতে থাকলো।জানতে চাইছেন তো সে কি বিষ? আরে সে ছিলো ফেক মানু, সে  সম্পর্কটা নিয়ে কখনোই সিরিয়াস ছিল না। নিশা ভেঙে চুড়ে শেস হয়ে গেল। তার মনে হল তার মনটা যেন একটা ভাজা পাপড় আর কেউ সেই পাপড় টা নিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে ভাঙছে।নিশা সিদ্ধান্ত নিল আর নয় সম্পর্ক।কিন্তু কথায় আছে মেয়েদের বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না সব ভুলে সব মেনে নিশা আবার সেই আগুনে পুড়তে পুরনো সম্পর্কে ঝাঁপ দিল।বেশ কিছুদিন পর আবার এক নতুন ঝড় এলো নিশার বাড়িতে সম্পর্কটা জানাজানি নিয়ে তারপর দুজনের কথা দূরত্ব বাড়তে থাকলেও দুটো মনের মধ্যে একটা বিন্দ্র ফারাক ছিল না এভাবে কাটলো আরো কয়েক মাস। তারপর উঠল আসল ঝড় যে ঝড়ে সবকিছু তছনছ করে দিলো ,হঠাৎ নিশার পুরনো রোগ দেখা দিল যে রোগে মানুষ পুরো শেষ হয়ে যায়। আস্তে আস্তে প্রতিমুহূর্তে নিজেকে দোষ দিতে থাকে নিশা সে হয়তো রোহন কে ঠকিয়ে যাচ্ছে এভাবে রোহন কে সারাটা জীবন ঠকানোর কোন মানেই হয়না, আর এটা ভেবেই নিশা আর নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বাড়াতে থাকে।রোহনের কাছে নিশা অনেক ছোট হয়ে যায় ,এই জন্যই অবশ্য প্রতি মুহূর্ত নিশা নিজেকেই দোষ দেয়।কিন্তু রোহনএখনো নায়কের চরিত্রে আছে কারণ সব জেনে আজও মন থেকে মেনে নিতে চায় কিন্তু নিশার চাওয়াটা অন্য -সে চায় এই অনিশ্চয়তার মাঝে রোহন কে না জড়িয়ে সারাটা জীবন একটা ভালো সম্পর্কে কাটাতে।তাই আজও নিশা প্রতি মুহূর্তে নিজের শেষ হয়ে গিয়েও কাউকে বুঝতে না দিয়ে রোহন কে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।এভাবে আজও নিশার জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে। নিশা শুধু এখন একটাই চাওয়া যে রোহন যাতে সারাটা জীবন খুব ভালোভাবে কাটাতে পারে।