কলিযুগের ক্যাচরা

কলিযুগের ক্যাচরা

"লজ্জা ঘৃণা ভয় তিন থাকতে নয় " -কথাটা একদম প্রযোজ্য মনে হয় এই ঘোর কলি যুগের জন্য।লজ্জা ?সেটা আবার কি ?লজ্জা একসময় নারীর ভূষণ ছিল কিন্তু শালা লজ্জা তো এখন নারী-পুরুষের ফ্যাশন।আর ঘৃণার কথা তো ভাবাই যায় না,  থুরি ভাবাটাই মনে হয় পাপ, আজকাল তো মনে হয় চারিদিকে এত ঘৃণা যে ঘৃণা এড়িয়ে চলার থেকে ল্যাবরেটরির বাইরে বাতাসের অক্সিজেন নাইট্রোজেন আলাদা করা অনেক সহজ কাজ।আর ভয় এটাতো ভাবলেই হাসি পায়, এখনকার ইয়ং জেনারেশন তো একেক জন একেক টা আস্ত ভূত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে- ওদের দেখলে তো আমরা সাধারন মানুষ যেন অন্ধকারে মরুভূমিতে তলিয়ে যেতে থাকে।

যদিও মাঝে মাঝে মনে হয় এই মোবাইলটাই হয়তো মিথ্যে কথা বলার মেশিন-দেখুন দাদা, রয়েছে হাবরাতে বলছে আছি হাওড়ায়আরে ভাই পাপ-পূর্ণের ভয়টা একটু কর।বাবা-মায়েরও বলিহারি যাই!কিসের এত আদিখ্যেতা তোমাদের? ছেলে সিক্সে পড়ে দাও কিনে একটা গল্পের বই তা না তাদের সো কলড স্ট্যাটাস এর জন্য ছেলের হাতে অর্ধেক খাওয়া আপেলের ছবি দেওয়া মোবাইল ফোন,ঠিক যেন তিন ইঞ্চি হাতে 9 ইঞ্চি ফোন-কেন রে?আরে তোরা চোখটা খাওয়ার সাথে সাথে যে বুদ্ধি, মানসিকতাও চিবিয়ে খাচ্ছিস সেটা একবার ভাব।আরে কেউ ওদের বাবা-মাকে বল্টু দার চায়ের দোকান থেকে 100 টাকার বুদ্ধি কিনে এনে দে রে।আর সভ্যতা ভদ্রতা? সে তো এখন দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হচ্ছে।আর কেউ বা যদি হঠাৎ এদের জগত থেকে ছিটকে গিয়ে অন্য গ্রহ বা উপগ্রহে গিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে বাঁচতে চায় তাহলে-ও দাদা কলিযুগের পাঁচিল  তাকে অছুত এর মত আলাদা করে দেবে।ওরে আমরা মা-বাবা বাবাকে তো দেবতা মনে করতাম,তোদের দেবতা মনে করতে বলছি না কিন্তু অসুর প্লিজ মনে করিস না।ভাবলে হাসিও পায় আবার বুক ভরা কষ্ট লাগে-পুঁচকে পুচকে বাচ্চা যাদের নাক টিপলে এখনো দুধ বের হয় তারা নাকি দিচ্ছে প্রেমে ধোকা খাওয়ার স্যাড স্ট্যাটাস- কিরে এসব  ন্যাকামি নাকি?কোন ব্র্যান্ডের হেলথ ড্রিংকস খেয়ে তোরা এতো ম্যাচিওর রে ?কি খাস তোরা এত?আমার তো মনে হয় ঝিনুক ,মালতি,টুনি এদের ইমোশনাল অত্যাচার এ প্রেমের বয়সটা যৌবন থেকে কিশোরে এসে  দাঁড়িয়েছে।কিসের এত কুরকুরানি রে তোদের?নাইনে পড়া ছেলেকে 19 ঘরের নামতা জিজ্ঞেস করলেই বেলুন চুপসে যায়, কিন্তু 19 টা মদের ব্র্যান্ডের নাম জিজ্ঞেস করলেই ঠোঁটের আগায় উত্তর রেডি থাকে-কি দিনকাল।ওরেে ভাই এতদিন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এর জ্বালায় জর্জরিত ছিলাম আবার শালা এখন এসে জুটেছে টিক টক।আগে শুনতাম লাইক, কমেন্ট কিন্তু এখন শুনি ফলোয়ার্স,হার্টস।আরে যেখানে সেখানে ক্যামেরা হাতে নাচন -কোদন করছে-হ্যাঁ রে তোদের কি লজ্জা শরম টুকু নেই?সবাই যেন নায়ক নায়িকা সেলিব্রেটি হয়ে গেছে।এরপরে তো আমির খান, কাজ,, শাহরুখ খান এদেরকে কচু গাছে গলায় দড়ি দিয়ে মরতে হবে।কি পরিবর্তন রে বাবা।কোন বাচ্চাকে এখন গল্পের বই পড়তে দেখাটা যেনো মনে হয় নিম্নচাপের মধ্যে আকাশের তারা দেখার মত। 

আর ড্রে?? ওরে কপাল যেগুলো আমরা ফেলে দিতাম সেগুলো নাকি ওরা টাকা দিয়ে কিনে পড়ে।যে ছেলেমেয়েরা যত হাটু ছেড়া,  পা ফাটা ড্রেস পড়বে নাকি ততই স্মার্ট।আবার সেদিন এটাও শুনলাম যে ড্রেস যত বেশি ছেঁড়া সে ড্রেস------ ততো বেশি দাম-ভাবা যায়?আরে তোরা পোষাক কিনিস কেনরে ?আদিম যুগের মতো ছাল পাতা দিয়ে ছেঁড়াফাটা পোশাক বানিয়ে পরনা।আরে চুল দাড়ি দেখলে তো মনে হয় পরচুল পড়ে যাত্রা করতে যাচ্ছে-একটা মাথায় কত কালারের চুল রে ভাই?কোথাও নীল কোথাও লাল কোথাও সবুজ-চুল দেখলে মনে হয় রামধনু টা চুল থেকেই তৈরি হয়েছে।

আর একটা গভীর চিন্তার বিষয়-আগে তো জানতাম পুরুষ,নারী আর থার্ড জেন্ডার ছিল -আর এখন শালা ভগবানের কি লীলা- নতুন নতুন কত জেন্ডার আবিষ্কার হচ্ছে তাদের নাকি আবার রিলেশনশিপ ও হয়, বিয়েও হয়।এখন তো বাইরের লুক দেখে ছেলে মেয়েদের আলাদা করা যায়না -কোন ছেলের বড় চুল আবার কোন মেয়ের ছোট চুল-ভাইরে আমার তো ইচ্ছা করে ওই চুলে দেশলাই ধরিয়ে দিতে।কিন্তু কিছু করার নাই ভাই কিছু করার নাই।অনাচার অবিচার দেখেও কিছু করার নাই।

এই যে দাদা-  বৌদি আপনাদের বলছি একটু সতর্ক হোন,একটু দায়িত্ব নিয়ে নিন সমাজটা শোধরানোর।আপনার বাচ্চার কম্পিউটারের যেমন দরকার আছে তেমন ঠাকুরমা -দাদুর থেকে পুরনো ইতিহাস জানারও দরকার আছে।মোবাইলের যেমন দরকার আছে তেমনি পাশাপাশি পার্কের সবুজ উদ্ভিদ এর কাছাকাছি থাকার দরকার আছে।বাহ্যিক আড়ম্বরের সাথে সাথে মনের বিকাশের দরকার আছে।চলুন  না আমরা সবদিক ব্যালেন্স করে সুন্দর একটা সমাজ গড়ে তুলি।