রকবাজি

রকবাজি

পাড়ার অলিগলি থেকে শুরু করে শহরের বড় রাস্তা, রাস্তা থেকে রাজপথ সবকিছুর মধ্যেই কমন জিনিস রকে আড্ডা দেওয়ার মতো মধুর কাজ আর নেই।কথায় আছে" নেই কাজ তো খই ভাজ"-আরে তোরা কথার খই না ভেজে কাজের খই ভাজলে  মন্দ হয় না কিন্তু।দুপুরের ঘুম কাটিয়ে ফুরফুরে মনে সুন্দর আমেজ নিয়ে এলাকার দুষ্টু মিষ্টি বৌদি, সোনা, মনা দের নিয়ে আড্ডা মারা -উফ কি মজা রে। আর তারপর যদি কোন মিষ্টি মামনি ফেন্সি ড্রেস পরে কোমরের অ্যাঙ্গেল চেঞ্জ করতে করতে হেঁটে যায় তাহলে তো সেটা উপরিপাওনা হয়ে গেল।তারপর তাদেরকে মশলা মেশানো রঙিন কথাবার্তা ছুড়ে দিতে বেশ রোমাঞ্চকর লাগে তাইনা?আর তাতে যদি মেয়েটি একবার ঘুরে তাকায় তাহলেই সে ঝিংকু মামনি আর না তাকালে  বেহেঞ্জি টাইপ লেরকি।আরে তোদের তো মনে হয় জাতীয় সংগীত হয়ে গেছে -"ইস কি মাল যাচ্ছে রে"।বাবার মেয়েরাই বোন হয় আর পাড়ার কাকার মেয়েরা দুষ্টু মামনি ইস কি ভাবনারে তোদের?তোরা তো মা-কাকিমাকে ও ছাড়িস না। আগে তো জানতাম চোখই হলো মনের আয়না, আর এখনতো চোখ তো নয় যেন সিসিটিভি ক্যামেরা।নখ থেকে পা, পা থেকে পিঠ ,পেট থেকে চুল সবকিছুই যেন নজরবন্দি হয়ে যাচ্ছে হাইলেনস যুক্ত সিসিটিভি চোখে-আর তার ফুটেজ রাখা হচ্ছে তোদের ঠিক বুকের বামদিকের ছোট্ট একটা যন্ত্রে?তোদের মনে হয় মেজারমেন্ট স্কেল এর বা ফিতের দরকার হয় না, চোখে দেখে সব মাপতে পারিস-কি ট্যালেন্ট এখনকার ছেলেদের ভাবাই যায়না বলেন দাদা? একটার পর একটা ক্রাশ খাচ্ছিস আর ফুটবল গ্রাউন্ডে তাদের মন নিয়ে খেলতে শুরু করে দিচ্ছিস, আর ঠিক যখন খেলাটা জমে উঠছে তখন গোল করার পরিবর্তে মন নামক বলটিকে ছুড়ে ফেলে দিচ্ছিস গ্রাউন্ডের বাইরে।এদিকে খাচ্ছিস, ঘুরছিস  সবই করছিস কিন্তু মুখ ভরা দাড়ি নিয়ে দেবদাস সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছিস -ইয়ার্কি নাকি রে?আরে যদি অতই খেলার সব তাহলে খেল না মাঠে গিয়ে,কচি মামনি গুলোর হৃদপিন্ডে গিয়ে বল ছোড়ার কি দরকার?আর মনে করলাম যদিও বা বল ছুড়লি, তাহলে গোলপোস্টে তাক কর বলটা কিন্তু তা না এদিক ওদিক পাস করে কাটিয়ে দিস বলটা।তখন মিষ্টি মামণির চোখের জলটা ন্যাকামি আর না খেয়ে মন খারাপ করাটা নাটক বলে মনে হয় তাই না?এই যে মন ভরা খুশি আর বুক ভরা সাহস নিয়ে প্রেম করতে দৌড়াচ্ছ, আর বিয়ের কথাটা উঠলেই -কাকা রকেটের মত ফুস করে উড়ে যাচ্ছ কেন?ওহো ভুলেই যাই দাবা, কেরাম, তাস ছেড়ে টাইম পাস এর বিষয় মেয়ের মন আর শরীর-চালিয়ে যাও কাকা, চালিয়ে যাও।বাড়িতে মায়ের কাছে কচি সোনাটা ,বাবুটা সেজে বাইরে এসে সাউথের প্রেমের নায়ক হয়ে শরীরে শিহরণ জাগিয়ে কি লাভ?বেশ তো ছোট থেকেই পানা পুকুরে ছিলে হঠাৎ করে সুইমিংপুলের রঙিন জল দেখে লাফিয়ে পড়ার কি দরকার  ছিল?সমাজের নোংরামিতে গা ভাসিয়ে কি লাভ?প্লেবয় হয়ে ভালই তো ব্যাটিং করছো, এবার ফিল্ডিংয়ে নেমে উইকেট টিপ করে দেখ কেমন লাগে। মেয়েরা  নাকি ন্যাকামি করে কিন্তু ভাই তোমরা তো আজকাল মিষ্টি মিষ্টি ন্যাকামিতে অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছো।এত ফিল্ডিং ব্যাটিংয়ে গিয়ে কি লাভ?

অনেক তো হল ফ্লার্টিং এর জোয়ারে গা ভাসানো।মনে কি হয় না একটু পাল্টানো দরকার?আমি বলছিনা, এবার বলবে তোমরা-সে দিন সহ্য করতে পারবে তো যেদিন তোমার বোন বা দিদির কান্নায় তোমার মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাবে?যেদিন তোমার বোন বা দিদিকে অন্য কেউ ব্যাটিংয়ে নামিয়ে আউট করে দিয়ে যাবে....তখন কি সেটা ন্যাকামি বলে মানতে পারবে? আরে তোমরাও তো সেরকমই তোমাদের মত কোন ছেলের বোন বা দিদির  মন ভাঙছো সেটা ভেবেছো?নিজের বেলায় আঁটি শুটি পরের বেলায় দাত কপাটি?এসব খেলা,ভাঙ্গা ছেড়ে মধ্য কথায় আসি...ভাঙ্গা- গড়া তো নিজের হাতে,চলনা একটু গড়ে দেখি।