অবুঝ হৃদয় পর্ব ২

অবুঝ হৃদয় পর্ব ২

যেমন ভাবা তেমন কাজ নীল শনিবার সারারাত ঘুমাতে পারেনি শুধু ভেবে গেছে কাল কি হবে? আর নীল মনে মনে কত কি স্বপ্ন এঁকে গেছে,যদিও এটাই হয়তো জীবনের খেলা -কৈশোর পেরিয়ে যৌবনের প্রবেশ করলেই হয়তো মানুষ এত স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।রবিবার সকালে ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছে করে না নীলের কিন্তু এই রবিবার  যেন ঘুম থেকে ওঠার তাড়াটা অনেক বেশি ছিল।বেরোনোর আগে দিদিকে অনেক আদর করে হাসতে হাসতে অনেক স্বপ্ন নিয়ে বেরোলো নীল যে এসে দিদিকে সারপ্রাইজ দেবে।নীল তার ময়ূরপঙ্খী সাইকেলটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।বাড়ি থেকে সুতীর্থদের বাড়ি খুব বেশি দূরে নয় হয়তো নীলকে 25 থেকে 30 মিনিট সাইকেল চালালেই হবে।সুতীর্থদার বাড়িটা বেশ বড়, এত বড় বাড়িতে নাকি মাত্র দুজন প্রাণী থাকে-থাকে কি করে কে জানে?  কখন সুতীর্থদার মুখোমুখি হবে নীলের আর সময় যেন কাটছেই না।এসব ভাবতে ভাবতেই সুতীর্থদের গেটের বাইরে এসে পৌছালো নীল, কোন দ্বিধা ছাড়াই গটগট করে নীল বাড়িতে ঢুকে পড়ল-মনে হয় সমস্ত শক্তি নীলের উপর ভর করেছে আজ।এত সকালে নীলের আশা হয়তো উচিত হয়নি, হয়তো ছুটির দিনে সুতীর্থ দা এখনো ঘুমাচ্ছে, কিন্তু দিদি তো বলতো সুতীর্থ দার সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস।যাইহোক আর কিছুই করার নেই ভেবে ডোরবেলটা বাজিয়ে দিল নীল।দরজাটা খুললো সুতীর্থ দরজা খুলে বোধহয় নীলকে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠল, নীলকে আগেও তিন-চারবার দেখেছে সুতীর্থ। ছোট থেকেই দিদিকে ওর ময়ূরপঙ্খী সাইকেলে স্কুল-কলেজ পৌঁছে দিত।নীলকে নিয়ে সুতীর্থ সোজা নিজের রুমে চলে গেল, এতে অবশ্য নীল বেশ খুশি হলো। নীল সুতীর্থের থেকে বেশ ছোট কিন্তু তাও অনেক সাহস নিয়ে সুতীর্থ কে জিজ্ঞেস করে ফেলল যে সুতীর্থ কেন আর দিদির সাথে যোগাযোগ রাখে না? কি এমন হল যে এত ভালো সম্পর্ক এভাবে নষ্ট হয়ে গেল?কিন্তু সুতীর্থ এ বিষয়ে কোন কথাই বলতে চাইছে না নীলের সাথে,নীলকে একটাই কথা বারবার বলছে তুমি এত ছোট তোমার সাথে এই নিয়ে কথা বলে কোন লাভ নেই।কিন্তু নীল তো ছাড়ার পাত্র নয়।আসলে নতুন নতুন কলেজে ভর্তি হয়েছে জীবনের নতুন একটা অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে তাই হৃদয় বা মস্তিষ্ক এখনো কোনটাই পরিণত হয়ে পারেনি,সবেমাত্র প্রেম নামক বিষয়টাকে একটু একটু করে রপ্ত করতে শুরু করছে।নীল চেপে ধরল সুতীর্থ দাকে যে আজ তোমাকে একটা উত্তর দিতেই হবে। তুমি কি জানো যে দিদি তোমার জন্য প্রতিদিন কাঁদে? একটার পর একটা সম্বন্ধে ভেস্তে দিচ্ছে,তুমি আর একবার বিষয়টা নিয়ে ভেবে দেখতে পারো না? সুতীর্থের যেন তখন সোমার কথা শুনে হৃদয় নামক বস্তু টার চলন দ্বিগুণ-তিনগুণ হয়ে গেল,এক মাইক্রো সেকেন্ড এর মধ্যে সোমার মুখটা ভেসে উঠলো সুতীথের মনে শুধু তাই নয় কাটানো সময় গুলো যেন সারা ঘরে প্রতিচ্ছবি হয়ে গেল,সোমার সাথে দেখা করার শেষ দিন টার কথা মনে পড়ে গেল..বুক ফেটে যাচ্ছে কিন্তু..... ছেলেদের তো কাঁদতে নেই,অনেক কষ্টে সুতীর্থ নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছে।নীল ছোট হলেও সেটা বুঝতে পারছে যে সুতীর্থ দা খুবই কষ্ট পাচ্ছে। আচ্ছা এই জন্যই কি দিদি সব সময় নীল কে বারণ করে নিজেকে মেয়েদের থেকে দূরে রাখতে?যাক এখনো নীল বা রিমা কারোর কথা ভেবে লাভ নেই এখন সুতীর্থ দার উত্তরের অপেক্ষা।নীল তো নাছোড়বান্দা উত্তর না নিয়ে আজ কিছুতেই বাড়ি ফিরবে না।আর সুতীর্থদা যখন চাকরিটা পেয়ে গেছে তখন বাড়ির অমতে গিয়ে বিয়ে করলেও বা ক্ষতি কি? এসব মনে মনে ভাবছে নীল আর একটু একটু করে আশার আলো বাড়িয়ে যাচ্ছে।সুতীর্থ দাকে নীল ফের জিজ্ঞেস করল আচ্ছা আমরা কি  আজ একটু সাহসী কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না? যদিও এর উত্তর দিয়েছিল সুতীর্থ-নীল তুমি এখনও অনেক ছোট কিন্তু তুমি যখন এসেছো আমি তোমাকে সব কিছু বলতে পারব না, তোমার দিদিকে বল আজ বিকেলে আমার সাথে দেখা করতে,মনে হয় সুতীর্থও সোমার সাথে দেখা করতে উদগ্রীব হয়ে ছিল তাই আজ বিকেলেই দেখা করার কথা বলল।নীল তো শুনে আনন্দ আর ধরে রাখতে না পেরে থ্যাংক ইউ সুতীর্থ দা বলে দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল,কিন্তু সুতীর্থ আবার পিছু ডেকে বলল নীল তোমার দিদিকে বোলো আমার ফোন নাম্বারটা একই আছে,আসার আগে যেন ফোন করে আসে।নীল যেন স্পাইডারম্যানের মতো উড়ে গিয়ে সাইকেলটার ওপর বসলো, মনে হচ্ছে নীল আজ পাখি হওয়ার দরকার ছিল,তাহলে হয়তো উড়ে গিয়ে দিদিকে খবরটা দিতে পারতো,নীল শুধু মনে মনে ভাবছে দিদি কতটা খুশি হবে আজ।নীলও যে ওয়েট করতে পারছেনা দিদির হাসি মুখটা দেখার জন্য।

                   চলবে......