অবুঝ হৃদয় পর্ব ৩

অবুঝ হৃদয় পর্ব ৩

রাস্তায় ঝড়ে পড়া শুকনোপাতার ওপর করমর শব্দে  সাইকেল উড়িয়ে নিচ্ছে অনেক আনন্দে নীল। বাড়ি ফেরার অপেক্ষামাত্র।মানসিক অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নীল বাড়ি এসে পৌছিয়ে ওর সাইকেলটা গাছে হেলান দিল,বাড়ি ফিরেই দিদি কে চিতকার করে ডেকে ডেকে শেসমেস  কল তলায় সোমাকে  আবিস্কার করল নীল। দিদিকে হাত ধরে টেনে এনে ঘরে এসে জড়িয়ে ধরে বলল "নে কাজকর্ম তারাতারি গুটিয়ে খেয়ে একটু বিস্রাম নে,বিকেলে তোকে বেরতে হবে"  সোমা তো অবাক, কিন্তু কোথায় রে ভাই? নীল বলল বিকেলে   সুতীর্থদার সাথে দেখা করতে যেতে হবে। সোমা বুঝতে পারলোনা ঠিক শুনল নাকি ভুল শুনল।কথাটা শুনে যেন ওর পা হাত সারা শরীর  কেপে উঠল,সমস্ত শরীরে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল,কিছুই যেন বুঝতে পারছেনা ও,ওই কথাটাই মনে হয় কানে বার বার বাজছে।বোকার  মত একভাবে ভাই এর দিকে তাকিয়ে আছে সোমা।নীল   দিদির হাতে ফোন নম্বরটা গুজে দিয়ে ছুটে পালিয়ে গেল।সোমা তখনও ওখানে ওই ভাবেই দাড়িয়ে রইল,নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না সোমা,মনের মধ্যে অন্যরকম অনুভূতি ঝলক পরছে সোমার।নীলও আজ খুব খশি,সমস্ত সুখ মনে হয় নীল আজ দিদিকে দিয়ে দিয়েছে।

বিকেলে খাওয়ার পর কিছুটা সময় বসে থেকে শুধুই এটা ভাবছে যে   ও কি সত্যিই ঠিক শুনেছে? এত বছর পর হঠাত কেন সুতীর্থ দেখা করতে চাইছে? কি চায় ও?এখনো কি ওকে ভালোবাসে সুতীর্থ? এসব ছাই পাস ভাবতে ভাবতে দেখল ঘড়িতে প্রায় ৪টা বাজে,খাট থেকে নেমে আলমারি খুলে চুরিদার বের করতে গেল,ওর চোখের সামনে সবুজ চুরিদার টা পরল,যদিও সোমা মনে মনে এটাই ভেবেছিল পরবে - সুতীথ বলত এটাতে নাকি সোমাকে বেশি ভালোলাগে।সবুজ রংটা সুতীর্থের খুব পছন্দের রং।

আজ মনে মনে সোমা ভাবছে খুব সাজবে,নিজেকে একটু অন্য রকম ভাবে তইরি করবে যাতে......।।  হয়ত মানুষের মনে আনন্দ আসলে মানুষ নিজেকে নতুন ভাবে দেখতে চায়,খুশির জোয়ারে নিজেকে ভাসিয়ে দিতে চায়।এসব ভাবতে ভাবতেই সোমা এটাও ভাবছে নীল কে কেন বল্ল যে দেখা করতে চায় সুতীথ? আচ্ছা এখনও কি সুতীর্থ একই রকম পাগলআছে? আগে কি পাগলামি টাই না করত দেখা করার জন্য,কলেজের বাইরের গেটে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতো ওর জন্য...সেবার তো কি পাগলামি ই না করল ভাবতেই মনে মনে সোমা হাহা করে হেসে উঠল-সোমার দাদার চোখাচোখি হয়ে যাওয়ায় সাইকেল ঘুরিয়ে অন্যদিকে যেতে গিয়ে সাইকেল নিয়ে উল্টে পড়ে গিয়েছিল সুতীর্থ। আজও কি সেরকমই আছে নাকি চাকরি পাওয়ার সাথে সাথে দিন বদলের সাথে নিজেকে পালটে ফেলেছে? এসব ভাবতে ভাবতে নিজেকে গুছিয়ে ফেলেছে সোমা,আজ আয়নায় নিজেকে অনেকবার দেখছে সোমা,নতুন প্রেমে পড়লে নাকি মেয়েরা নিজেকে আয়নায় একটু বেশি সুন্দরী মনে করে,হয়তো সেটা তার লাজুক হাসির জন্য-মানুষের মুখমণ্ডলই তো হৃদয়ের খুশি আয়না।যাই হোক কিন্ত নীল কোথায়? কার সাথে যাবে সোমা?

 

যাইহোক আজ বোধহয় সোমা  কে একাই যেতে হবে,নীল ইচ্ছে করেই আজ দিদি আর সুতীর্থ দাকে একটু আলাদা করে সময় কাটানোর বন্দোবস্ত করে দিয়েছে।বেরোনোর আগে সোমা সুতীর্থ নাম্বার ডায়াল করছে- নম্বরটা অতি পরিচিত কিন্তু তাও যেন সোমার চিরকুটে লেখা ফোন নাম্বারটা দেখে দেখে ডায়াল করতেও হাত কাঁপছে,ডায়াল করার পর বুঝতে পারছে না সোমা যে কি বলবে....হঠাৎ ফোনের ওপ্রান্ত থেকে হ্যালো শব্দটা শুনে সোমার সমস্ত চেতনা শক্তি কয়েক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল,মনে হচ্ছে শরীরটা খুব ভারি ভারি লাগছে সোমার।হ্যালোর উত্তরে সোমা কোন শব্দই বের করতে পারছে না মুখ থেকে।সুতীর্থ মনে হয় সবটাই বুঝতে পেরে ফোনটা কেটে দিলো।এক মিনিটের মধ্যে ফোনে একটা ম্যাসেজ ঢুকলো- সেটা তে লেখা ছিল যে সুতীর্থ পুরনো দেখা করার জায়গায় সোমার জন্য ওয়েট করছে।সোমা আর কিছু না ভেবেই আনন্দে কিন্তু খুব আস্তে আস্তে বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে এগোতে লাগলো।

কিন্তু এটা কি হল ছাতা নিয়ে বের হইনি সোমা, এই শীতকালে আবার ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল।একবার ভাবলো যে কিছুটা সময় দাঁড়িয়ে যাবে কিন্তু হঠাৎ মনে করল তাহলেতো সুতীর্থ ভিজবে কারণ সুতীর্থ তো কখনই ছাতা নিয়ে চলার অভ্যাস নেই।তাই ভিজে ভিজে চলল সোমা।আর দু মিনিটে বোধহয় সমা পৌঁছে যাবে সুতীর্থ কাছে।

ওই তো  দূরে সুতীর্থকে দেখা যাচ্ছে- অনেক পরিবর্তন হয়েছে সুতীথের।আগের থেকে অনেক বেশী সুন্দর লাগছে সুতীর্থকে দেখতে...... তবে আগের থেকে এখন অনেক বেশী গুছিয়ে নিয়েছে বা গুছিয়ে রেখেছে নিজেকে সুতীর্থ।যতটাই সামনে এগোচ্ছে সোমার হৃৎস্পন্দন দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে,কিন্তু সুতীর্থ ওকে দেখে অন্য দিকে ঘুরে দাঁড়ালো কেন? আগেতো যতটা সময় সোমাকে দেখা যেত সুতীর্থ ওর দিকে ততটা সময় ধরেই তাকিয়ে থাকতো....আজ তাহলে কেন এরকম করছে সুতীর্থ?তাহলে আজ কি আর সুতীর্থ চায়না সোমাকে? তাহলে কেন বলল সোমাকে আজ বিকেলে দেখা করার জন্য? 

   চলবে......