অদ্ভুত সম্পর্ক

অদ্ভুত সম্পর্ক

"কাকিমা তুমি আর এ বাড়িতে আসবে না? আমার সাথে গল্প করবে না? তোমাকে ছেড়ে থাকবো কি করে?"এক নিশ্বাসে বলেই ফোনে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো মন্টি। আর ফোনের ওপাশ থেকেও ফোঁপানির শব্দ শোনা যাচ্ছে। ফোনটা দুড়ুম করে রেখে দৌড়ে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা সপাটে বন্ধ করে খাটে শুয়ে পড়লো মন্টি। বাড়িতে কেউ কথা বলছে না মন্টির সাথে, কি অপরাধ করেছে ও যার জন্য এত কিছু...? অপরাধ তো করেছিল কিন্তু সেটা কতটা অপরাধ সেটা বুঝে উঠতে পারছে না এখনো...... যার জন্য কাকিমা কেও বাড়ি ছাড়তে হলো। এসবই দুই দিন দুই রাত ধরে মন্টি ভেবে যাচ্ছিল, ভেবেছিল কাকিমাকে আর ফোন করবে না।কিন্তু অনেক কষ্টে নিজেকে আটকাচ্ছিল শেষমেষ আর পারল না আজ দুপুরে সবাইকে লুকিয়ে ল্যান্ড লাইন থেকে ফোনটা করতেই হল, কেন কি মোবাইল টাও তো বাবা ছুরে ভেঙে দিয়েছে-আচ্ছা মোবাইলটার বা কি দোষ?

দুই বছরের বেশি হল কাকার বিয়ে হয়েছে, কাকা কাকিমা আর বয়সের ফারাক টা বেশ খানিকটাই-প্রায় 14 বছরের... বলা যায় এক যুগেরও বেশি।বয়সের ফারাক এর সাথে সাথে তো চিন্তা-ভাবনার ফারাক থাকবেই তাই মন্টির কাকা কাকিমার ও ছিল। ঝগড়াঝাঁটি হলেও কাকিমা কিন্তু কাকাকে বেশ শ্রদ্ধা করত আর ভালোবাসতো-এটা কেউ না জানলেও মন্টি বেশ বুঝতে পারত। মন্টি সাথে কাকিমার বেশ জমত সেই প্রথম থেকেই, আর সেটাই স্বাভাবিক একই যুগে বড় হওয়া দুটো মানুষের চিন্তা ভাবনার মিল তো থাকবেই। মন্টি থেকে কাকিমা খুব বেশি হলে 5 কি 6 বছরের বড়।তাই বিয়ের পর থেকে অনেক বিষয়েই কাকিমার সাথে তর্ক - আলোচনা জমে যেত। দুজনে দুজনের খুব পেছনে লাগতো,রাগাতো আবার খুঁটিনাটি বিষয়ে হাসির জোয়ার তুলত। প্রথম প্রথম দুজনের এই ব্যাপার গুলো খুব প্রাণবন্ত, ছেলেমানুষি লাগতো। বাড়ির সবাই বেশ মজাই নিত। কাকা তো সবসময়ই বলতো মন্টি তোদের জুটিটা বেশ ভালোই হয়েছে-এখন আর তোকে ক্লাবে গিয়ে আড্ডা দিতে হবে না। মা ও বেশ স্বস্তি পেত কেন কি মাও ভয় পেত বাইরের জগতে মিশে মনটি খারাপ না হয়ে যায়। একদিন তো কাকা ইয়ার্কি করে বলেছিল তুই একা ক্লাবে যাচ্ছিস কেন তোর কাকিমা কেও নিয়ে যা। মন্টি এখন শুয়ে শুয়ে ভাবছে কত মজাই না ছিল তখন এর দিনগুলো... আর আজ কাকিমা নেই। কেন যে এমন হল....?

মন্টির বয়স এখন একুশ আর কাকিমার বয়স 26 কি 27 হবে... ভরা যৌবন আর কাকা আর চল্লিশোর্ধ ‌ মজায় চলছিল সবকিছু ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে মনের দূরত্ব কমতে থাকে, বন্ধুর মত দুজন দুজনকে সবকিছু শেয়ার করা শুরু করল-এমন একটা সময় এলো দুজনে প্রায় এক আত্মা এক প্রাণ হয়ে গেল-দুজনে সব সময় এক ঘরে গল্প করছে। এমনকি কাকিমা রান্নাঘরে গেলেও মন্টি চলে যেত কাকিমাকে সাহায্য করতে-সেই ছেলেটা যে এক গ্লাস জল ভরে খেত না সে এত কাজ করছে চোখে লাগতো ব্যাপারটা.. ঠাম্মা অবশ্য বলতো বেশ হয়েছে কাকিমাই পারবে মন্টি কে দিয়ে কাজ করাতে।দুপুরে ছেলে খেয়ে এক মুহূর্ত বসতো না সোজা খাটে গা এলিয়ে দিত কিন্তু আজকাল বাড়িতে সবাই নাক ডেকে ঘুমালেও কাকিমা আর ভাইপো সারাদুপুর টিভি দেখে আড্ডা দিয়ে কাটিয়ে দিত... মাও খুব চিৎকার করত -পড়াশোনা, কলেজ, প্রাইভেট টিউশন-এমনকি মন্টির সবথেকে প্রিয় কাজ ছবি আঁকা সেসব যেন লাটে তুলে দিয়েছে.. বাড়ির লোকের চোখে বেশ বিরক্তিকর লাগা শুরু করেছে ব্যপারগুলো।কাকা রাতে বাড়ি ফিরেও কাকিমাকে ঘরে পাচ্ছেনা মন্টির রুম থেকে ডেকে নিতে হচ্ছে -ব্যাপার গুলো বেশ দৃষ্টিকটু লাগত কিন্তু ওরা সেটা বুঝতো না। মা ও তো মন্টি কে কম বুঝায় নি কিন্তু মন্টি ব্যাপারটা গুরুত্বই দেয় নি কখনো। মনে হচ্ছিল পুরো বাড়িটাই ওদের পৃথিবী আর এই পৃথিবীতে ওরা দুজন ছাড়া জনমানবহীন।

আর সেই দিন বাড়িতে ঠাম্মা ছাড়া কেউ ছিলনা দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর সিনেমা দেখতে দেখতে দুজনে এতটাই ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিল যে দুজন যৌবনের জ্বালায় নিজেদের কন্ট্রোল হারিয়ে ভুলটা করেই ফেলে। কাকিমার কাছে এই বিষয়টা পুরনো হলেও মন্টির জীবনের প্রথম পাওয়া যৌবনের ছোঁয়ায় মন্টি পাগল হয়ে গেছে...তারপর দুজনেই লজ্জা পাচ্ছিল সামনা সামনি হতে কিন্তু পরদিন দুপুরে নিজে থেকেই টিভিতে সিনেমা চালিয়ে বসলো আর কাকিমা পাশে এসে বসলো তারপর ধীরে ধীরে কথাবার্তা হতে হতে আগের দিনের সমস্ত লজ্জা কেটে গেল.... এরপর আরও 3-4 দিন ওদের মনের মিল এর সাথে সাথে শরীরের মিল ও ঘটলো। এদিকে বাড়িতেও অশান্তি ধীরে ধীরে বাড়ছে।এরপর 26 শে জানুয়ারি মা ও ঠাম্মা ঘুমোচ্ছে বাবা কাকা অফিসে.... হঠাৎ মা উঠে এসে ওদের দুজনের ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলে আর এটাই হল হল ওদের... এতকিছুর পরিনতি আজ কাকিমা বাড়ি ছাড়া.........

আচ্ছা বলুন তো এটা কার দোষ ছিল? মা রুপী কাকিমার নাকি সন্তানের ন্যায় মন্টির..? নাকি যৌবনের? নাকি সময়ের  বা পরিস্থিতির? হয়তো একেক জনের উত্তর একেকটা কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মতামত আত্ম সংযমের অভাব..... সময় বা পরিস্থিতি যাই হোক না কেন দুজনের সংযম ক্ষমতার জোর থাকলে আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না বা দুজনকে আলাদা হতে হতো না, সংসারটাও ভেঙে যেত না, হয়তো দুজনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কটা আরও মধুর হত।