আর কাপুরুষতা নয়

আর কাপুরুষতা নয়

যৌন মিলনের পর পুরুষের প্রতি ফোঁটা বীর্যের মধ্যে প্রায় চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার শুক্রাণু থাকে। চলমান শুক্রাণুগুলো নারীর যোনিপথ দিয়ে দ্রুতগতিতে ফ্যালোপিয়ান টিউবে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। হাজার-হাজার ছোট্ট শুক্রাণু ফ্যালোপিয়ান টিউবের দেয়ালে ধাক্কা খায় এতে প্রায় 80% শুক্রাণু আহত হয়ে পিছিয়ে যায়, কিছু আবার মারাও যায়।দৌড়ের প্রতিযোগিতায় অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী 300 বা 400 শুক্রাণু ফ্যালোপিয়ান টিউবে প্রবেশ করতে পারে। যদি সেই সময় নারীর ডিম্বাণু ফ্যালোপিয়ান টিউবে উপস্থিত থাকে তবেই ওই 300-400 শুক্রাণু ডিম্বাণু তীর দেয়াল ফাটিয়ে প্রবেশ করতে চায়।কিন্তু একটি মাত্র শক্তিশালী শুক্রাণু,ডিম্বাণুর দেয়াল ফাটিয়ে বহু সংঘাত- প্রতিঘাত চালিয়ে সৌভাগ্যক্রমে ডিম্বানুতে প্রবেশ করে। ডিম্বাণু-শুক্রাণুর মোট 46 জোড়া ক্রোমোজোম নিষেকের পর জাইগোট তৈরি হয়, এরপর ওই জাইগোট টা  পাওয়ারফুল সেলে তৈরি হয়ে জরায়ুতে প্রবেশ করে। তখন কিন্তু জানা যায় সেই নারী মা হতে চলেছে। তখনো কিন্তু সেই বাচ্চার সংগ্রাম করে মায়ের দেহে টিকে থাকতে হয়। তারপর ধীরে ধীরে মায়ের দেহে বড় হয়ে পৃথিবীর আলো দেখতে পায়।

এবার ভাবো তুমি কত সংগ্রাম করে জন্মেছ?কত যুদ্ধ করেছিলে নিজেকে তৈরি করার জন্য, জীবন প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কয়েক হাজার জনকে পিছনে ফেলেছিলে। মাত্র কয়েক মাইক্রো সেন্টিমিটারের ছিলে তুমি অথচো এত লড়াই করেছো এই সুন্দর পৃথিবীতে আসার জন্য, মা-বাবা আত্মীয়-পরিজনের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য।আর আজ তুমি পূর্ণাঙ্গ একটা মানুষ অথচ জীবন যুদ্ধে হেরে যাচ্ছ? হারটা মাথা নিচু করে মেনে নিচ্ছ? সেদিনতো হারার ভয়েতে নিজেকে আরো শক্তিশালী করে তুলেছিলে।তুমি তো ভাগ্যবান তাই এই পৃথিবীর আলো দেখতে পেয়েছো,ভাবো তো সেদিন যারা তোমার সাথে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল তাদের তো তুমি পরাজিত করতে পেরে ছিলে তাহলে আজ ভেঙে পড়ছো কেন? এত সংগ্রাম করে যে জীবনটা তুমি নিজে অর্জন করে নিয়েছিলে সেটা নষ্ট হতে দিচ্ছ কেন?এখন তো তোমার দুটো হাত আছে খিদে পেলে নিজে খেতে পারো অথচ মনে আছে সেই দিনটার কথা? যখন খিদে পেলেও তোমার মায়ের খাওয়ার জন্য তোমাকে নির্ভর করে থাকতে হয়েছে অথচ তুমি নিজেকে শেষ হতে দাও নি তাহলে আজ এত তুচ্ছ কারণে নিজেকে নিংড়ে নিচ্ছো কেন? এত সহ্য ক্ষমতা ছিল তোমার কোথায় গেল সেই ক্ষমতা? বয়স বাড়ার সাথে সাথে তো ক্ষমতা বাড়ায় চিত কিন্তু কেন কমছে তোমার?

সেই ছোট্ট তুমি যেভাবে নিজেকে ধীরে ধীরে তৈরি করেছিলে আজ আবার সব ভয়- ঘৃণা- আতঙ্ক-লজ্জা দূরে ঠেলে দিয়ে উঠে দাঁড়াও... শক্তিশালী মানুষে পরিণত হও। তবেই তো তোমার বহু কষ্টে অর্জন করা জীবনটা সার্থক হবে... তাইনা?