স্বপ্ন পূরণ পর্ব ২

স্বপ্ন পূরণ পর্ব ২

স্যার: এত দেরি করে কাল থেকে কেউ ক্লাসে আসলে ক্লাস শুরুর পর কাউকে আর ঢুকতে দেবো না।

বৃষ্টি: আসলে.... স্যার মানে...... রাস্তায়.....

স্যার: ঠিক আছে... চুপ করো.. ক্লাসে মন দাও।

ক্লাসে ঢোকা মাত্রই এদিকে সায়কের দিলমে বাজে গিটার.... কি যে অদ্ভুত আনন্দ হচ্ছে সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। মনে হচ্ছে সারা দিন খারাপ এরপর হঠাৎ কোটি টাকার লটারি জেতার মতো ফিলিংস।

ক্লাস শেষ হতেই.....

সায়ক: এক্সাইটমেন্ট চাপতে না পেরে কিরে বৃষ্টি রাস্তায় কি হয়েছিল? তুইতো এত দেরি করে ক্লাসে আসিস না কখনো?

বৃষ্টি:আরে ডিরেক্ট বাড়ি থেকে এলাম তো তাই হোস্টেলে ব্যাগ রাখতে গিয়ে তারপর আবার রাস্তায় জ্যামে আটকে গিয়ে  দেরি হয়ে গেল, দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লাসে এসে পৌছালাম।

সারা ক্লাস জুড়ে আড়চোখে বৃষ্টিকে কিছুক্ষণ পরপরই দেখছে সায়ক, কিন্তু যতবারই দেখছে সায়ক ততবারই আপসেট হচ্ছে.... একবারও কি বৃষ্টি তাকায় না সায়কের দিকে? কেনইবা তাকাবে ওতো শহরের ছেলেদের মত ঝাঁ-চকচকে নয়। ছোট থেকেই মফস্বলে বড় হয়েছে, বাবার পয়সা থাকলেও কলকাতার লাইফস্টাইল ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল ওদের , তারপর আবার আদব-কায়দা বা রুচি এখনো বেশ কিছুটা ব্যাকডেটেড। কিছুটা বললে ভুল হবে বেশ কিছুটা ই। আধুনিকতার বেড়াজাল ওকে ঘিরতে পারেনি এখনো। বেশ অনেক লম্বা হলেও গায়ের রং শ্যামলা ধাচের। পরনে টাইট t-shirt এর পরিবর্তে সুতির ফতুয়া আর জিন্স। কলিযুগে এইরকম ছেলেকে যেসব মেয়েরা কলির কেষ্ট ভাববে সেটা ভাবাটাও বোকামি। অপরদিকে বৃষ্টি বেশ সুন্দরী কিন্তু আহামরি নয়...গায়ের রং উজ্জল শ্যামবর্ণ, ছিপছিপে গড়ন, পরনের সর্বদা মার্জিত পোশাক, শান্ত স্বভাব, লেখাপড়া তো বেশ ভালই..... যেগুলো সায়কের চাহিদা অনুযায়ী যথেষ্টই।

যথারীতি ক্লাস শেষ করে ওরা যে যার গন্তব্যস্থলে রওনা দিল। বাড়ি ফেরার পথে রাহুলের সাথে দেখা সায়ক এর। রাহুলের সেই একই কথা-ভাই তুই তো একা থাকিস একদিন তোর ফ্লাটের চাবি টা দে গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে পার্সোনাল টাইম স্পেন্ড করি। রাহুলকে কোনমতে এড়িয়ে চলা যাচ্ছে না আর। ইদানিং ফোন করেও পাগল করে দিচ্ছে। কি যে ভালোবাসা সে..কিরকম ভালোবাসা যে আলাদা টাইম কাটাতে হয়...সায়ক বুঝে উঠতে পারে না। নাহ্ এবার রাহুলকে কড়াভাবে কিছু বলতেই হবে, ওর ওই একটাই দোষ কারোর ওপর করা হতে পারে না কিন্তু আর উপায় নেই...... ও কোন বন্ধুত্বের বিনিময়েই ওর বিছানাটাকে অপবিত্র করবে না। এসব ভাবতে ভাবতেই ফ্লাটের লকটা খুলে ঘরে ঢুকলো, ফ্রেশ না হয়েই  এসি আর টিভিটা অন করে সোফায় বডিটা ফেলল....কিন্তু টিভিতে মোটেও মন নেই সম্পূর্ন মন জুড়ে এখন ওর ওই স্বপ্ন। অনেকটা সময় পেয়েছে স্বপ্নটাকে নিয়ে ভাবার। খুব ভাবতেও ইচ্ছে করছে, স্বপ্নটা নিয়ে এগিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে।মনে মনে স্বপ্নের মাঝে নিজেকে আর বৃষ্টিকে ঢুকিয়ে বহুদূর এগিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে। এর মধ্যেই আবারো স্বপ্নভঙ্গ হলো কলিং এর শব্দে, না এবার আর কলিংবেলের শব্দে নয় ফোন কলিং এর শব্দে। বেশ কিছুটা বিরক্ত হয়েই ফোনটা হাতে নিয়ে লাফ দিয়ে উঠে বসলো স্ক্রীনের ওপর নামটা দেখে। হঠাৎ মনে হলো শাপেবর করেছে-বৃষ্টির নাম্বারটা আগে থেকেই সেভ ছিল ফোনে কিন্তু কোনদিন কল করার সাহস দেখায়নি সায়ক। উল্টে আজ ই বৃষ্টি সায়ককে ফোন করল.... নিজের চোখকে বিশ্বাস করাও কষ্ট হয়ে যাচ্ছে .... হঠাৎ করে মনে হলো ফোনটা তো রিসিভ করতে হবে কলটা কেটে যাবে নাতো?

তড়িঘড়ি করে ফোনটা ধরল... কিন্তু বলার মত কথাটাও খুঁজে পাচ্ছে না... হ্যালো বলতে হয় সেটা মনে হয় গুলিয়ে ফেলেছে..

ওপার থেকে বৃষ্টি: হ্যালো সায়ক... শুনতে পাচ্ছিস? তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে তাই ফোন করলাম...

সায়ক: থরথর বুকে , কাঁপা গলায় বলল হ্যাঁ বল...

                                                               চলবে.....